ফ্রিল্যান্সিং এর টুকটাক
বর্তমান সময়ে তরুণদের কাছে সবচাইতে একটি আলোচিত বিষয় হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। ফ্রিল্যান্সিং করে অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই অনেক বেকার লোকের কর্মসংস্থানও মিলছে। অনলাইনে আয়ের ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং করার বিষয়টি সবচেয়ে জনপ্রিয়। কীভাবে ঘরে বসে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে আয় করা যায় এ বিষয়ে আমাদের আজকের আর্টিকেল।
ফ্রিল্যান্সিং কি?
ফ্রিল্যান্সিং অর্থ হলো স্বাধীন বা মুক্ত পেশা। অন্যভাবে বলা যায় , নির্দিষ্ট কোন প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকে নিজের মত করে স্বাধীন-ভাবে কাজ করাকে ফ্রিল্যান্সিং বলে। এই ধরনের পেশাজীবীদের বলা হয় ফ্রিল্যান্সার। কয়েকটি ওয়েবাসাইটে ফ্রিল্যান্সারদের কাজের দক্ষতার বিবরণ জানাতে হয়, যাতে ক্রেতা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। এসব সাইট হলো
ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে কিভাবে আয় করা যায়?
ফ্রিল্যান্সিং প্রথম শুরু হয়েছিলো 1998 সালের দিকে। অনলাইনে একটা মার্কেটপ্লেস খোলা হয়েছিলো, সেখান থেকেই বলতে গেলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের শুরু। অনলাইনে আয়ের ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার বিষয়টি সবচেয়ে জনপ্রিয় বিষয়।
বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে ফ্রিল্যান্স কাজের সুযোগ দিয়ে থাকে কয়েকটি ওয়েবসাইট। সেখানে অ্যাকাউন্ট খুলে দক্ষতা অনুযায়ী কাজের জন্য আবেদন করতে হয়। কাজদাতা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী যোগাযোগ করে ফ্রিল্যান্সারকে কাজ দিয়ে থাকে। মনে রাখতে হবে, কাজ শেষ করার পর কাজদাতার কাজ ঠিক ভাবে পেলেই তবেই অর্থ দিবেন তিনি। ওয়েব ডিজাইন থেকে শুরু করে গ্রাফিক ডিজাইনিং, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, বিষয়ভিত্তিক আর্টিকেল লেখা বা ডাটা এন্ট্রি হতে পারে ফ্রিল্যান্সিং এর বিষয়।
ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে ঘণ্টায় 5 থেকে 100 ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব । ক্লায়েন্টের সাথে কাজ শুরুর আগেই চুক্তি করা হয় পারিশ্রমিক নিয়ে। গ্রাহকের পছন্দ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করে দিতে হয় ফ্রিল্যান্সারকে। কাজ হয়ে গেলে, ক্লায়েন্ট ফ্রিল্যান্সারকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়। বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করে অর্থ আনা যায়। ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে অনেকে প্রচলিত চাকরি থেকে বেশী আয় করে থাকেন, তবে তা আপেক্ষিক। বর্তমানে ছাত্র- ছাত্রী এবং অনেক চাকুরিজীবি ফ্রিল্যান্সিং এর সাথে যুক্ত রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে নানা রকম কাজ করা সম্ভব।
ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়,
তুলনামূলক সহজ কাজগুলোর মধ্যে আছে ডাটা এন্ট্রি বা আর্টিকেল লেখার মতো কাজ। এসব কাজের জন্যে প্রচুর ফ্রিল্যান্সার আসে, তাই এমন কাজ পেতে হলে একজন ফ্রিল্যান্সারকে বেশ বড় রকমের একটা প্রতিযোগিতায় পড়তে হয়।
কঠিন কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন , ডিজিটাল মার্কেটিং ইত্যাদি। এমন কাজে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া যায়, প্রতিযোগিতাও কিছুটা কম। কিন্তু এসব কাজ নিখুঁতভাবে করতে হলে আপনাকে এক্সপার্ট হতে হবে।
ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে অনলাইনে আয়ের জন্য দক্ষতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাই সময়োপযোগী কাজের দক্ষতা অর্জন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে তৈরি করে নিতে পারলেই লাভবান হওয়া সম্ভব।

No comments